রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
২০০৭ সালে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করার এক সূক্ষ্ম নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যার অন্যতম কারিগর ছিল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার গ্রুপ। এই দুই সংবাদমাধ্যম শুধু পরিকল্পনাই করেনি, বরং বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে একের পর এক কুৎসিত অপপ্রচার চালিয়েছে। মূলত, ২০০৭ সাল থেকেই এই ষড়যন্ত্রের কার্যকর বাস্তবায়ন শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে প্রথম আলো বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে, যা ছিল রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সূচনা। পরবর্তীতে বিএনপির অভ্যন্তরে ‘সংস্কার’ নামক এক পরিকল্পিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যার পেছনে ছিলেন প্রথম আলোর মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টারের মাহ্ফুজ আনাম।
২০০৭ সালের ২৬ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এক ‘সংস্কার প্রস্তাব’ দিয়েছেন, যার ফলে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বেন। ওই খবরে বলা হয়, বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এমন বিধান চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী বা দলের চেয়ারম্যান হতে না পারেন। অর্থাৎ, এটি কার্যকর হলে বেগম জিয়ার বিএনপির নেতৃত্বে থাকার আর কোনো সুযোগ থাকত না, এমনকি ভবিষ্যতে তিনি প্রধানমন্ত্রীও হতে পারতেন না।
এই নীলনকশার আরও একটি চমকপ্রদ দিক ছিল, দলের চেয়ারম্যান যদি প্রধানমন্ত্রী হন, তবে তাকে চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে হবে। পাশাপাশি, গঠনতন্ত্র সংশোধন করে চেয়ারপারসনের একক ক্ষমতা খর্ব করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকত না চেয়ারপারসনের। এমনকি দলীয় নেতাদের পরিবার ও আত্মীয়দের রাজনৈতিক পদে আসার বিষয়টিও নিরুৎসাহিত করা হয়।
এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ২০০৭ সালের এক-এগারো সরকারের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তারেক রহমানকেও আটক করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার একের পর এক বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল খালেদা জিয়াকে জনসমর্থনহীন করা।
প্রথম আলো শুধু বেগম জিয়া বা তারেক রহমানের বিরুদ্ধেই অপপ্রচার চালায়নি, বরং তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছে। ২১ আগস্টের ঘটনায় প্রথম আলো ‘জঙ্গি হামলা’ তত্ত্ব হাজির করেছিল। সাংবাদিক টিপু সুলতান লিখেছিলেন, ‘বিমানকে নিঃস্ব করে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন শামীম ইস্কান্দার’, যদিও এর কোনো সত্যতা কখনোই প্রমাণিত হয়নি।
সবচেয়ে নিন্দনীয় হলো, ২০১৮ সালে যে মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়, সেটিও প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের এক পরিকল্পিত মিথ্যা প্রচারণার ফসল। ২০০৭ সালের ৬ আগস্ট প্রথম আলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কথিত দুর্নীতি নিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে। এই সংবাদকে ভিত্তি করেই দুর্নীতি দমন কমিশন বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা সাজায়। এই মিথ্যা প্রচারণার কারণেই একসময়কার জনপ্রিয় নেত্রীকে অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এখন তাদের অবস্থান পাল্টালেও বাংলাদেশের জনগণ তাদের এই ‘বিরাজনীতিকরণ প্রকল্প’ কখনোই ভুলবে না। এসব সংবাদমাধ্যমের ‘নতুন মুখোশ’ পরা অবস্থাও মানুষ স্পষ্টতই দেখছে। অতীতের ষড়যন্ত্র যারা করেছে, ভবিষ্যতেও তাদের প্রতি আস্থাহীনতাই থাকবে সময়ের অনিবার্য দাবি।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন